রাজশাহী নগরীতে,
মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ!
- আপডেট সময় : ১০:৫৮:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ১২০ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিনিধি:
রাজশাহী নগরীতে ঢাকা বাস টার্মিনাল এলাকায় মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরনের ঘটনা ঘটেছে। মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয় দখলকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষ হয়, এবং মহানগর শ্রমিক দল এই কার্যালয় উদ্ধার করেছে বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে চারটা থেকে সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত ঘণ্টাব্যাপী মহানগরীর শিরোইল বাস টার্মিনাল এলাকায় এই তাণ্ডব চলে। এতে এখন পর্যন্ত কোন পক্ষের আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
কার্যালয় দখলে নেতৃত্ব দেন রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পাখি। পাখি মহানগর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক। তার সঙ্গে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সদস্য, বিএনপি, যুবদল ও শ্রমিক দলের নেতাকর্মীদেরও দেখা যায়। তারা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নানা ধরনের শ্লোগান দিতে থাকেন।
সাধারণ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মাহাতাব হোসেন চৌধুরী। আওয়ামী সরকারের পতনের পর তিনি আত্মগোপন করেন। তখন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হন রফিকুল ইসলাম পাখি। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার পাখির অনুসারীরা কয়েকজন শ্রমিককে মারধর করেন। এ সময় শ্রমিকেরাও পাখিকে লাঞ্ছিত করে ইউনিয়ন কার্যালয়ে তালা দিয়ে দেন। এরপর থেকে একটি পক্ষ সংগঠনের নির্বাচন দাবি করছিলেন।
এ নিয়ে উত্তেজনা চলছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে পাখিবিরোধী প্রায় শতাধিক শ্রমিক শিরোইলে ঢাকা বাস টার্মিনাল এর পশ্চিমে সংগঠনের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। আর পাখির অনুসারীরা রেলগেট এলাকায় অবস্থান নেন। তখন দুপক্ষের কাছেই কাছে রড, পাইপ ও লাঠি দেখা যায়। শিরোইলে শ্রমিকেরা কিছু ইটও ভেঙে প্রস্তুত থাকেন। সংঘর্ষের শঙ্কায় সড়কের উপর থেকে সব বাসও সরিয়ে নেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দুপক্ষের মাঝে অবস্থান নিয়ে থাকে পুলিশ।
কিন্তু হঠাৎ বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পাখির প্রায় দুই শতাধিক অনুসারী শিরোইলের দিকে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যান। সেখানে পৌঁছেই তারা পাঁচ-ছয়টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটান। এ সময় পুলিশ শিরোইল-আলুপট্টি সড়কের দিকে নিরাপদ দুরত্বে সরে যায় । তাই কোনো বাধা না পেয়ে পাখির অনুসারীরা ককটেল বিস্ফোরণ করতে করতে এগিয়ে যান। এ সময় পাখিবিরোধী শ্রমিকেরা পিছু হটেন। তারা কোনো প্রতিরোধ করতে পারেননি।
তাদের ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে পাখির অনুসারীরা কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নেন। এ সময় আশপাশের কয়েকটি দোকান, ভবনের কাঁচ ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। এ সময় তাদের হাতে ইটপাটকেল ছাড়াও দেশীয় অস্ত্র, আগ্নেয়াস্ত্র, পাইপ ও লাঠি দেখা যায়। ভাঙচুরের পর তারা শিরোইল-আলুপট্টি সড়কের দিকে যান। সেখান থেকে ফিরে তারা আবার রেলগেটে চলে যান। প্রায় একঘণ্টা ধরে এই তাণ্ডবের সময় পুলিশ ছিল দর্শকের ভূমিকায়।
জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম পাখি বলেন, আওয়ামী লীগের শ্রমিক নেতারা সাধারণ শ্রমিকদের দিয়ে কার্যালয়ে তালা দিয়েছিল। আমরা কার্যালয় উদ্ধার করেছি। এখন কোনো সমস্যা নেই।
কথা বলার জন্য সংঘর্ষের পর পাখিবিরোধী শ্রমিকদের কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে সংঘর্ষের আগে সংগঠনের কার্যালয়ের সামনে অবস্থানের সময় শ্রমিকেরা বলছিলেন, তাদের সংগঠনে এখন নির্বাচিত নেতৃত্ব নেই। সংগঠন দখল করা হয়েছে। তারা এখন নির্বাচন চান।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, দুপক্ষই সরে গেছে। এখন পরিস্থিতি শান্ত। তাণ্ডবের সময় পুলিশের দর্শকের ভূমিকায় থাকার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা অতিরিক্ত ফোর্স পাঠিয়েছি। আর কেউই আইনের বাইরে নয়। ঐ এলাকায় সিসি ক্যামেরা আছে। ফুটেজ দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।














