ঢাকা ০৪:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের ধর্মঘট,

রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ!

নিজস্ব প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৭:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬ ১১৪ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

রোববার (২৯ মার্চ) সকাল থেকে ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়ন কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করছে । ফলে উত্তরের রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

জানা গেছে, জ্বালানি তেল পরিবহণের কাজে নিয়োজিত ট্যাংকলরি চালকসহ তিনজন শ্রমিককে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জেল-জরিমানা করার প্রতিবাদে রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছে ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়ন।

জ্বালানি তেল পরিবহণের সময় তিনজন শ্রমিককে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও জরিমানা দেওয়ার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। এর ফলে পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপো থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহসহ সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত হয়ে পড়েছে। পেট্রল পাম্প মালিকরাও শ্রমিকদের এ আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন।

শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, জ্বালানি তেল নিয়ে নীলফামারীর দিকে যাওয়ার সময় একটি তেলবাহী লরিতে যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেয়। সেটি ঠিক করতে গাড়িটি থামিয়ে কেবিন খুলে তারা মেরামতের কাজ করছিলেন। এ সময় নীলফামারী জেলার এনডিসি নিয়াজ ভূঁইয়া সড়কে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। তিনি লরিটি তল্লাশি করে কেবিনে দুটি জারকিনে ১০ লিটার পেট্রল ও ২ লিটার ডিজেল উদ্ধার করেন।

পরে অবৈধভাবে তেল বহনের অভিযোগে একরামুল হক, চালক শ্রী কৃষ্ণচন্দ্র ও সহকারী রিফাতকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন এবং তিনজনের ওপর মোট এক লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করেন।

এ ঘটনার প্রতিবাদে রোববার সকাল থেকে শ্রমিকরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেন। দুপুরে তারা পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোর সামনে সমাবেশ করেন এবং পরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।

শ্রমিকদের অভিযোগ, সড়ক ও মহাসড়কে পুলিশি হয়রানি এবং অযৌক্তিকভাবে ট্যাংকলরি চালক, ম্যানেজার ও সহকারীদের জেল-জরিমানা করার প্রতিবাদে তারা এ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা দ্রুত নিয়াজ ভূঁইয়ার অপসারণ এবং দণ্ডপ্রাপ্ত শ্রমিকদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন অব্যাহত রাখারও ঘোষণা দিয়েছেন।

এ বিষয়ে রংপুর বিভাগীয় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আতাউর রহমান জানান, অবিলম্বে জেল হাজতে পাঠানো শ্রমিকদের মুক্তির পাশাপাশি অভিযুক্ত এনডিসি নিয়াজ ভূঁইয়াকে অপসারণ করা না হলে কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

এ বিষয়ে রংপুর বিভাগীয় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, জেল-জরিমানায় হাজতে পাঠানো শ্রমিকদের মুক্তির দাবিতে ধর্মঘট চলছে। আমরা আলটিমেটাম দিয়েছি শ্রমিক ভাইদের নিঃশর্ত মুক্তি ও ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এনডিসির অপসারণ না হলে আমাদের ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে। আমাদের সঙ্গে পাম্প মালিকরাও একাত্মতা ঘোষণা করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের ধর্মঘট,

রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ!

আপডেট সময় : ০৬:৩৭:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

রোববার (২৯ মার্চ) সকাল থেকে ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়ন কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করছে । ফলে উত্তরের রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

জানা গেছে, জ্বালানি তেল পরিবহণের কাজে নিয়োজিত ট্যাংকলরি চালকসহ তিনজন শ্রমিককে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জেল-জরিমানা করার প্রতিবাদে রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছে ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়ন।

জ্বালানি তেল পরিবহণের সময় তিনজন শ্রমিককে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও জরিমানা দেওয়ার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। এর ফলে পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপো থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহসহ সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত হয়ে পড়েছে। পেট্রল পাম্প মালিকরাও শ্রমিকদের এ আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন।

শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, জ্বালানি তেল নিয়ে নীলফামারীর দিকে যাওয়ার সময় একটি তেলবাহী লরিতে যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেয়। সেটি ঠিক করতে গাড়িটি থামিয়ে কেবিন খুলে তারা মেরামতের কাজ করছিলেন। এ সময় নীলফামারী জেলার এনডিসি নিয়াজ ভূঁইয়া সড়কে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। তিনি লরিটি তল্লাশি করে কেবিনে দুটি জারকিনে ১০ লিটার পেট্রল ও ২ লিটার ডিজেল উদ্ধার করেন।

পরে অবৈধভাবে তেল বহনের অভিযোগে একরামুল হক, চালক শ্রী কৃষ্ণচন্দ্র ও সহকারী রিফাতকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন এবং তিনজনের ওপর মোট এক লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করেন।

এ ঘটনার প্রতিবাদে রোববার সকাল থেকে শ্রমিকরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেন। দুপুরে তারা পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোর সামনে সমাবেশ করেন এবং পরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।

শ্রমিকদের অভিযোগ, সড়ক ও মহাসড়কে পুলিশি হয়রানি এবং অযৌক্তিকভাবে ট্যাংকলরি চালক, ম্যানেজার ও সহকারীদের জেল-জরিমানা করার প্রতিবাদে তারা এ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা দ্রুত নিয়াজ ভূঁইয়ার অপসারণ এবং দণ্ডপ্রাপ্ত শ্রমিকদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন অব্যাহত রাখারও ঘোষণা দিয়েছেন।

এ বিষয়ে রংপুর বিভাগীয় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আতাউর রহমান জানান, অবিলম্বে জেল হাজতে পাঠানো শ্রমিকদের মুক্তির পাশাপাশি অভিযুক্ত এনডিসি নিয়াজ ভূঁইয়াকে অপসারণ করা না হলে কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

এ বিষয়ে রংপুর বিভাগীয় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, জেল-জরিমানায় হাজতে পাঠানো শ্রমিকদের মুক্তির দাবিতে ধর্মঘট চলছে। আমরা আলটিমেটাম দিয়েছি শ্রমিক ভাইদের নিঃশর্ত মুক্তি ও ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এনডিসির অপসারণ না হলে আমাদের ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে। আমাদের সঙ্গে পাম্প মালিকরাও একাত্মতা ঘোষণা করেছেন।