ঢাকা ০৪:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত,

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ছোট গল্প ।

লেখক:- খন্দকার মো,আখতারুজ্জামান।
  • আপডেট সময় : ০৮:৩১:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬ ১৪০ বার পড়া হয়েছে

0-4064x3074-0-0-{}-0-12#

“হরেক রকম ভালবাসা”
—————-
ভূমিকা : এই গল্পের প্রতিটি চরিত্র কাল্পনিক। যদি গল্পটি কারও জীবনের সাথে মিলে যায় সেজন্য লেখক দায়ী নহে বা অনিচ্ছাকৃত ।

নামকরণ ভূমিকা : পৃথিবীতে একদল মানুষ কুটিল বা জটিল । আরেক দল সৎ এবং সরল। সঙ্গত কারণে নানা ধরনের টানাপোড়েন দেখা যায়। প্রতিটি মানুষের জীবনই এক একটি ” এনসাইক্লোপিডিয়া”বলে আমি বিশ্বাস করি । এটুকুই বলব গল্পটি পুরোপুরি পড়লে পাঠকগণ বুঝতে পারবে নামকরণ স্বার্বথকতা।

ফর্দ: ১
—_–

হঠাৎ মাঝরাতে ঘুম ভেঙ্গে যায় সৌরভের। এপাশ ওপাশ করতে থাকে ঘুমানোর জন্য কিন্ত ঘুমের পরিবর্তে উদ্ভট বা আজগুবি কিছু চিন্তা তাকে ঘিরে ধরে।

ইদানিং প্রায় এমন হচ্ছে সৌরভের,রাতে ঠিক ভাবে ঘুম হচ্ছে না।কিছু দুশ্চিন্তা তাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। জীবনের গতিপথ নিয়ে শংকিত। রাত্রি নামের একটি মেয়ে তার কারণ।

মেয়েটি তাকে এক প্রকার বাধ্য করে তার প্রতি প্রেমের আসক্তি সৃষ্টি করতে।এক পর্যায়ে সৌরভ লক্ষ করে রাত্রি ছাড়া তার কিছুই ভাল লাগছে না।মন সব সময় তাকে খুঁজে বেড়ায় কিন্ত পাশাপাশি মহল্লার বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও রাত্রি ও সৌরভ চাইলেই একে অপরের সঙ্গে দেখা করতে পারত না। কারণ এভারেস্ট এর মত দেয়াল ছিল একটি। আর সেটা হচ্ছে রাত্রির মাতা জাহানারা বেগম।

অথচ এই মহিলার পরিকল্পনায় সৌরভ ও রাত্রির প্রেমের যাত্রা শুরু হয়। সৌরভ তখন বয়সে তরুণ থেকে যৌবনে পদার্পণ করছে মাত্র। একটি ১৬/১৯ বছরের ছেলে সে আর কতটুকুই বোঝে পৃথিবী সম্পর্কে । মানুষ স্বার্থের কারণে কত রকম ছল চাতুরী করে সৌরভের জানা ছিলনা ঐ বয়সে। রাত্রিকে এগিয়ে দিয়ে সৌরভকে বিভিন্ন ভাবে প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে।সৌরভ অনেক বার মা ও মেয়েকে বুঝিয়েছে তার পক্ষে বিয়ে করা সম্ভব হবে না। সৌরভ যে কারণ/সমস্যা দেখিয়েছে সেই কারণ/সমস্যার একটি যুক্তিযুক্ত সমাধান দিয়ে একসময় সৌরভের মাকে কনভাইট করে ফেলে জাহানারা বেগম। এমনকি তারা সৌরভের লিখাপড়ার ব্যয় বহন করতেও সম্মত হয়। সেটা আবার সৌরভের মাতা মেনে নেয় ।যা বিস্মিত করেছিল তরুণ সৌরভকে। এটাতো বিক্রি করে দেয়ার মত। সৌরভ কি পণ্য ছিল? এই বিষয়টি খুবই মর্মাহত করেছিল তখন সৌরভকে।

এবার দেখা যাক গল্পের নায়ক (না খল নায়ক তার বিবেচনা পাঠকের) সৌরভ সম্পর্কে । সৌরভ ইন্টারমিডিয়েট পড়ুয়া নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান, ০২ ভাই ০২ বোন। সে বড়, তার পিতা একজন ব্যবসায়ী । অর্থ প্রতিপত্তি না থাকলেও তাদের ফ্যামিলি স্ট্যাটাস কম ছিল না। বয়স ১৭ বছর পেরিয়ে ১৯ বছরে পদার্পণ করেছে মাত্র।চোখে মুখে একরাশ স্বপ্ন নিয়ে সে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় লিপ্ত।তাই পড়ার ফাঁকে ফাঁকে সে হোম টিউটর হিসেবে ছাত্র – ছাত্রীদের প্রাইভেট পড়াত। বাকী সময়টা বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়া, গান বাজনা নিয়ে হৈ হুল্লোর করে বেড়ানো এক দুরন্ত কিশোর ।যদিও তার স্বভাব চরিত্র দেখে খুব কমই বোঝা যেত ।কারণ শান্ত প্রকৃতির ছেলে ছিল সৌরভ । পড়ালেখার পাশাপাশি গানের প্রতি ছিল এক অন্যরকম আসক্তি । গায়ক হবে বলে শিল্পকলা একাডেমীতে তিন বছর গানের প্রশিক্ষণ নেয়। গান তার জীবনের অন্যতম বিনোদন বা বেঁচে থাকার খোরাক। এক কথায় বাধাহীন মুক্ত এক জীবন। সে কখনও কখনও ডানা মেলে আকাশে উড়ত বা মাঝে মাঝে গ্রহ নক্ষত্র বিচরণ করত। সারাক্ষণ হাসিখুশি একজন ছেলে । ইনোসেন্ট বয় ছিল সে।তার এই হাসিখুশি মুখটা চির দিনের জন্য কেড়ে নেয় রাত্রি ও তার মা জাহানারা বেগম!

এবার আসা যাক এই গল্পের আরেক গুরুত্বপুর্ন চরিত্র নায়িকা (না খল – নায়িকা তার বিবেচনা পাঠকের) রাত্রি নামের একটি মেয়ের কাছে। রাত্রি তখন একজন পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী । হালকা পাতলা গড়নের লিকলিকে পাতলা উচ্চতা প্রায় সৌরভের কাছাকাছি ৫/৫ বা ৫/৪ ফিট। এককথায় ফুটন্ত গোলাপ কেবলমাত্র পাপড়ি মেলতে শুরু করেছে। দেখতে আহামরি সুন্দর না হলেও তার চোখে ছিল এক অদ্ভুত মায়া । খুব জেদি স্বভাবের ছিল রাত্রি কিন্ত সৌরভ কখনও তার জেদ দেখেনি। রাত্রির মা বলেছিল একথা। কিভাবে সৌরভ রাত্রির পরিচয় হল সেটাই বলা হয়নি এতক্ষণ।

সৌরভ সবে মাত্র এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে।

(চলবে)

ফর্দ – ২ আসছে…

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত,

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ছোট গল্প ।

আপডেট সময় : ০৮:৩১:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

“হরেক রকম ভালবাসা”
—————-
ভূমিকা : এই গল্পের প্রতিটি চরিত্র কাল্পনিক। যদি গল্পটি কারও জীবনের সাথে মিলে যায় সেজন্য লেখক দায়ী নহে বা অনিচ্ছাকৃত ।

নামকরণ ভূমিকা : পৃথিবীতে একদল মানুষ কুটিল বা জটিল । আরেক দল সৎ এবং সরল। সঙ্গত কারণে নানা ধরনের টানাপোড়েন দেখা যায়। প্রতিটি মানুষের জীবনই এক একটি ” এনসাইক্লোপিডিয়া”বলে আমি বিশ্বাস করি । এটুকুই বলব গল্পটি পুরোপুরি পড়লে পাঠকগণ বুঝতে পারবে নামকরণ স্বার্বথকতা।

ফর্দ: ১
—_–

হঠাৎ মাঝরাতে ঘুম ভেঙ্গে যায় সৌরভের। এপাশ ওপাশ করতে থাকে ঘুমানোর জন্য কিন্ত ঘুমের পরিবর্তে উদ্ভট বা আজগুবি কিছু চিন্তা তাকে ঘিরে ধরে।

ইদানিং প্রায় এমন হচ্ছে সৌরভের,রাতে ঠিক ভাবে ঘুম হচ্ছে না।কিছু দুশ্চিন্তা তাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। জীবনের গতিপথ নিয়ে শংকিত। রাত্রি নামের একটি মেয়ে তার কারণ।

মেয়েটি তাকে এক প্রকার বাধ্য করে তার প্রতি প্রেমের আসক্তি সৃষ্টি করতে।এক পর্যায়ে সৌরভ লক্ষ করে রাত্রি ছাড়া তার কিছুই ভাল লাগছে না।মন সব সময় তাকে খুঁজে বেড়ায় কিন্ত পাশাপাশি মহল্লার বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও রাত্রি ও সৌরভ চাইলেই একে অপরের সঙ্গে দেখা করতে পারত না। কারণ এভারেস্ট এর মত দেয়াল ছিল একটি। আর সেটা হচ্ছে রাত্রির মাতা জাহানারা বেগম।

অথচ এই মহিলার পরিকল্পনায় সৌরভ ও রাত্রির প্রেমের যাত্রা শুরু হয়। সৌরভ তখন বয়সে তরুণ থেকে যৌবনে পদার্পণ করছে মাত্র। একটি ১৬/১৯ বছরের ছেলে সে আর কতটুকুই বোঝে পৃথিবী সম্পর্কে । মানুষ স্বার্থের কারণে কত রকম ছল চাতুরী করে সৌরভের জানা ছিলনা ঐ বয়সে। রাত্রিকে এগিয়ে দিয়ে সৌরভকে বিভিন্ন ভাবে প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে।সৌরভ অনেক বার মা ও মেয়েকে বুঝিয়েছে তার পক্ষে বিয়ে করা সম্ভব হবে না। সৌরভ যে কারণ/সমস্যা দেখিয়েছে সেই কারণ/সমস্যার একটি যুক্তিযুক্ত সমাধান দিয়ে একসময় সৌরভের মাকে কনভাইট করে ফেলে জাহানারা বেগম। এমনকি তারা সৌরভের লিখাপড়ার ব্যয় বহন করতেও সম্মত হয়। সেটা আবার সৌরভের মাতা মেনে নেয় ।যা বিস্মিত করেছিল তরুণ সৌরভকে। এটাতো বিক্রি করে দেয়ার মত। সৌরভ কি পণ্য ছিল? এই বিষয়টি খুবই মর্মাহত করেছিল তখন সৌরভকে।

এবার দেখা যাক গল্পের নায়ক (না খল নায়ক তার বিবেচনা পাঠকের) সৌরভ সম্পর্কে । সৌরভ ইন্টারমিডিয়েট পড়ুয়া নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান, ০২ ভাই ০২ বোন। সে বড়, তার পিতা একজন ব্যবসায়ী । অর্থ প্রতিপত্তি না থাকলেও তাদের ফ্যামিলি স্ট্যাটাস কম ছিল না। বয়স ১৭ বছর পেরিয়ে ১৯ বছরে পদার্পণ করেছে মাত্র।চোখে মুখে একরাশ স্বপ্ন নিয়ে সে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় লিপ্ত।তাই পড়ার ফাঁকে ফাঁকে সে হোম টিউটর হিসেবে ছাত্র – ছাত্রীদের প্রাইভেট পড়াত। বাকী সময়টা বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়া, গান বাজনা নিয়ে হৈ হুল্লোর করে বেড়ানো এক দুরন্ত কিশোর ।যদিও তার স্বভাব চরিত্র দেখে খুব কমই বোঝা যেত ।কারণ শান্ত প্রকৃতির ছেলে ছিল সৌরভ । পড়ালেখার পাশাপাশি গানের প্রতি ছিল এক অন্যরকম আসক্তি । গায়ক হবে বলে শিল্পকলা একাডেমীতে তিন বছর গানের প্রশিক্ষণ নেয়। গান তার জীবনের অন্যতম বিনোদন বা বেঁচে থাকার খোরাক। এক কথায় বাধাহীন মুক্ত এক জীবন। সে কখনও কখনও ডানা মেলে আকাশে উড়ত বা মাঝে মাঝে গ্রহ নক্ষত্র বিচরণ করত। সারাক্ষণ হাসিখুশি একজন ছেলে । ইনোসেন্ট বয় ছিল সে।তার এই হাসিখুশি মুখটা চির দিনের জন্য কেড়ে নেয় রাত্রি ও তার মা জাহানারা বেগম!

এবার আসা যাক এই গল্পের আরেক গুরুত্বপুর্ন চরিত্র নায়িকা (না খল – নায়িকা তার বিবেচনা পাঠকের) রাত্রি নামের একটি মেয়ের কাছে। রাত্রি তখন একজন পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী । হালকা পাতলা গড়নের লিকলিকে পাতলা উচ্চতা প্রায় সৌরভের কাছাকাছি ৫/৫ বা ৫/৪ ফিট। এককথায় ফুটন্ত গোলাপ কেবলমাত্র পাপড়ি মেলতে শুরু করেছে। দেখতে আহামরি সুন্দর না হলেও তার চোখে ছিল এক অদ্ভুত মায়া । খুব জেদি স্বভাবের ছিল রাত্রি কিন্ত সৌরভ কখনও তার জেদ দেখেনি। রাত্রির মা বলেছিল একথা। কিভাবে সৌরভ রাত্রির পরিচয় হল সেটাই বলা হয়নি এতক্ষণ।

সৌরভ সবে মাত্র এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে।

(চলবে)

ফর্দ – ২ আসছে…