ঢাকা ০৭:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বলিউড তারকা,

ইয়ামি গৌতম যে সিনেমার জন্য কুরআন শিখেছিলেন!

বিনোদন ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০২:৩৬:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ১২২ বার পড়া হয়েছে

(ছবি: সংগৃহীত)

বিনোদন ডেস্ক:

মুম্বায়ের বলিউডে বহুমুখী চরিত্র পর্দায় ফুটিয়ে তোলার জন্য সুপরিচিত ইয়ামি গৌতম। ক্যারিয়ারে বেশ কিছু ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করে আগেই নিজের জাত চিনিয়েছেন। একজন দক্ষ অভিনয়শিল্পী নিজের চরিত্রকে পর্দায় জীবন্ত করে তুলতে কতটা পরিশ্রম করতে পারেন, গত বছর তারই অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এই ভারতীয় অভিনেত্রী।

গত বছরের নভেম্বরে মুক্তি পায় আলোচিত বলিউড সিনেমা ‘হক’। এটি মূলত ১৯৭০-এর দশকের ভারতের এক সত্য ঘটনার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। ছবির মূল চরিত্র শাজিয়া বানো হিসেবে তাতে অভিনয় করেন ইয়ামি।

সম্প্রতি বিবিসি এশিয়ান নেটওয়ার্ককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ছবির পরিচালক সুপর্ণ ভার্মা জানিয়েছেন, তার পরিচালিত ‘হক’-এর প্রস্তুতির জন্য ইয়ামি কোনো সংক্ষিপ্ত পথ বেছে নেননি। সাক্ষাৎকারে ভার্মা জানান, ছবির প্রধান চরিত্র শাজিয়া বানোতে অভিনয় করার জন্য অভিনেত্রীকে তিনি কুরআন শেখার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন।

ইসলাম সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করাই ‘হক’ সিনেমার মূল উদ্দেশ্য বলেও উল্লেখ করেন এই নির্মাতা।

সাক্ষাৎকারে ভার্মা বলেন, ‘চার মাস সময় নিয়ে ইয়ামি ভাষা ও উচ্চারণ বোঝার চেষ্টা করেছে। আমরা যেভাবে কুরআন ব্যবহার করেছি, তা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়েছে। এ কারণেই আমি ছবিটি ‘ইকরা’ শব্দ দিয়ে শেষ করেছি। ’

ইসলাম নিয়ে ভ্রান্ত তথ্য ও বিভ্রান্তি প্রসঙ্গে ভার্মা বলেন, ‘ইসলামকে ঘিরে অসংখ্য ভুল ধারণা রয়েছে। আমরা এখন ভ্রান্ত তথ্যের যুগে বাস করছি। অ্যান্ড্রু টেটের মতো ব্যক্তিকে যারা বোঝে ও সমর্থন করে—তাদের নিয়েই যেন এক আলাদা জগৎ তৈরি হয়েছে। আমরা এক বিকৃত বাস্তবতায় বসবাস করছি।’

নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন এই নির্মাতা। তিনি বলেন, ‘আমার সারা জীবনেই মুসলিম বন্ধু ছিল। একজন ভারতীয় হিসেবে আমি বিষয়টি গভীরভাবে বুঝতে চেয়েছি। আমরা প্রায় দেড় বছর সময় নিয়ে ইসলামি আইন নিয়ে গবেষণা করেছি’।

চলচ্চিত্রটিতে শরিয়াহ আইন ও তিন তালাকের মতো বিতর্কিত বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ভার্মা বলেন, ‘তিন তালাক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আমি ভুল ধারণাগুলো দূর করতে চেয়েছি। মানুষকে বোঝাতে চেয়েছি, ‘মোহর’ আসলে নারীদের জন্য এক ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা’।

চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ জিজ্ঞেস করেন, এখন কেন এ গল্প? ৪০ বছরে নারীদের জন্য কী বদলেছে? তখনো তারা পুরুষশাসিত সমাজে বাস করত, এখনো করে। একই বৈষম্য, একই বাধার মুখোমুখি হয় তারা’।

‘হক’ চলচ্চিত্রে এক নারীর ভরণপোষণ ও সম্মানের জন্য আইনি লড়াই তুলে ধরা হয়েছে। স্বামীর পরিত্যাগ ও তালাকের পর তার ব্যক্তিগত সংগ্রাম কীভাবে নারীর অধিকার নিয়ে জাতীয় বিতর্কে রূপ নেয়, সেটিই ছবির মূল উপজীব্য।

সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন ও ইমেজেস অবলম্বনে ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বলিউড তারকা,

ইয়ামি গৌতম যে সিনেমার জন্য কুরআন শিখেছিলেন!

আপডেট সময় : ০২:৩৬:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

(ছবি: সংগৃহীত)

বিনোদন ডেস্ক:

মুম্বায়ের বলিউডে বহুমুখী চরিত্র পর্দায় ফুটিয়ে তোলার জন্য সুপরিচিত ইয়ামি গৌতম। ক্যারিয়ারে বেশ কিছু ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করে আগেই নিজের জাত চিনিয়েছেন। একজন দক্ষ অভিনয়শিল্পী নিজের চরিত্রকে পর্দায় জীবন্ত করে তুলতে কতটা পরিশ্রম করতে পারেন, গত বছর তারই অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এই ভারতীয় অভিনেত্রী।

গত বছরের নভেম্বরে মুক্তি পায় আলোচিত বলিউড সিনেমা ‘হক’। এটি মূলত ১৯৭০-এর দশকের ভারতের এক সত্য ঘটনার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। ছবির মূল চরিত্র শাজিয়া বানো হিসেবে তাতে অভিনয় করেন ইয়ামি।

সম্প্রতি বিবিসি এশিয়ান নেটওয়ার্ককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ছবির পরিচালক সুপর্ণ ভার্মা জানিয়েছেন, তার পরিচালিত ‘হক’-এর প্রস্তুতির জন্য ইয়ামি কোনো সংক্ষিপ্ত পথ বেছে নেননি। সাক্ষাৎকারে ভার্মা জানান, ছবির প্রধান চরিত্র শাজিয়া বানোতে অভিনয় করার জন্য অভিনেত্রীকে তিনি কুরআন শেখার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন।

ইসলাম সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করাই ‘হক’ সিনেমার মূল উদ্দেশ্য বলেও উল্লেখ করেন এই নির্মাতা।

সাক্ষাৎকারে ভার্মা বলেন, ‘চার মাস সময় নিয়ে ইয়ামি ভাষা ও উচ্চারণ বোঝার চেষ্টা করেছে। আমরা যেভাবে কুরআন ব্যবহার করেছি, তা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়েছে। এ কারণেই আমি ছবিটি ‘ইকরা’ শব্দ দিয়ে শেষ করেছি। ’

ইসলাম নিয়ে ভ্রান্ত তথ্য ও বিভ্রান্তি প্রসঙ্গে ভার্মা বলেন, ‘ইসলামকে ঘিরে অসংখ্য ভুল ধারণা রয়েছে। আমরা এখন ভ্রান্ত তথ্যের যুগে বাস করছি। অ্যান্ড্রু টেটের মতো ব্যক্তিকে যারা বোঝে ও সমর্থন করে—তাদের নিয়েই যেন এক আলাদা জগৎ তৈরি হয়েছে। আমরা এক বিকৃত বাস্তবতায় বসবাস করছি।’

নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন এই নির্মাতা। তিনি বলেন, ‘আমার সারা জীবনেই মুসলিম বন্ধু ছিল। একজন ভারতীয় হিসেবে আমি বিষয়টি গভীরভাবে বুঝতে চেয়েছি। আমরা প্রায় দেড় বছর সময় নিয়ে ইসলামি আইন নিয়ে গবেষণা করেছি’।

চলচ্চিত্রটিতে শরিয়াহ আইন ও তিন তালাকের মতো বিতর্কিত বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ভার্মা বলেন, ‘তিন তালাক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আমি ভুল ধারণাগুলো দূর করতে চেয়েছি। মানুষকে বোঝাতে চেয়েছি, ‘মোহর’ আসলে নারীদের জন্য এক ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা’।

চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ জিজ্ঞেস করেন, এখন কেন এ গল্প? ৪০ বছরে নারীদের জন্য কী বদলেছে? তখনো তারা পুরুষশাসিত সমাজে বাস করত, এখনো করে। একই বৈষম্য, একই বাধার মুখোমুখি হয় তারা’।

‘হক’ চলচ্চিত্রে এক নারীর ভরণপোষণ ও সম্মানের জন্য আইনি লড়াই তুলে ধরা হয়েছে। স্বামীর পরিত্যাগ ও তালাকের পর তার ব্যক্তিগত সংগ্রাম কীভাবে নারীর অধিকার নিয়ে জাতীয় বিতর্কে রূপ নেয়, সেটিই ছবির মূল উপজীব্য।

সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন ও ইমেজেস অবলম্বনে ।