ঢাকা ০৪:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাস্তবের সঙ্গে সরকারের কথার মিল নেই,

বাংলাদেশে তেল সংকট: সর্বশেষ পরিস্থিতি

ক্রাইম নিউজ প্রতিক্ষণ ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ১২:০৮:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ১২২ বার পড়া হয়েছে

0-4064x3074-0-0-{}-0-12#

ক্রাইম নিউজ প্রতিক্ষণ ডেস্ক:

বাংলাদেশে চলছে তেল নিয়ে তেলেসমতি। সরকার বলছে তেলের কোন সংকট নেই কিন্ত বাস্তবে দেখা গেছে উল্টো চিত্র । অনেক পেট্রোল পাম্প বন্ধ, যেটা খোলা সেখানেও ৩/৪ ঘণ্টা তেল দিয়ে শেষ হয়ে যাচ্ছে তেল। পাঠকদের জন্য বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হল।

রাজধানীসহ সারা দেশে তেলের জন্য পাম্পগুলোতে এখনও লম্বা লাইন। তবে আগের তুলনায় ভোগান্তি কিছুটা কমেছে। আগে সারাদিন দাঁড়িয়ে থাকতে হলেও এখন ২৫ মিনিট থেকে ১-৩ ঘণ্টায় তেল পাওয়া যাচ্ছে।

ঢাকার চিত্র : ট্রাস্ট, মেঘনা ও সুমাত্রা পাম্পে ১-২ ঘণ্টা লাগছে। নিকুঞ্জ মডেল সার্ভিসে ২৫-৩৫ মিনিট। গাবতলি এসপি ফুয়েলে ৫০-৬০ জনের লাইন, সময় লাগছে ১ ঘণ্টা।

জেলায় অবস্থা আরও খারাপ : অনেক পাম্পে ১৫ দিনে একবার তেল দেওয়া হচ্ছে। ৪০% পাম্প মাসে ১৫-২০ দিনে একবার তেল পাচ্ছে।

সংকটের মূল কারণ:
সরকার বলছে এটা ‘কৃত্রিম সংকট’। কিন্তু পাম্প মালিক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন মিশ্র কারণ:

আন্তর্জাতিক চাপ*: মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে অস্থিরতা। হরমুজ প্রণালি নিয়ে চাপও আছে।

চাহিদা বনাম বরাদ্দ : গত বছরের তুলনায় গাড়ি বেড়েছে, কিন্তু পাম্পগুলো গত বছরের হারে তেল পাচ্ছে। অনেক পাম্প মাসের শুরুতেই বরাদ্দ শেষ করে ফেলছে।

প্যানিক বাইং: ক্রেতারা প্রয়োজনের বেশি তেল কিনে মজুত করছেন। আগে ২০০ টাকার তেল কিনলেও এখন ১২০০-১৩০০ টাকার তেল কিনছে।

গ্যাসসংকট: গ্যাসের অভাবে দেশে উৎপাদিত পেট্রোল-অকটেনও কম পাওয়া যাচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভ্রাট: লোডশেডিংয়ের কারণে কারখানায় জেনারেটর চালাতে ডিজেলের চাহিদা বেড়েছে।

সরকার কী বলছে?

মজুদ সর্বোচ্চ : বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, দেশের ইতিহাসে এখন সবচেয়ে বেশি জ্বালানি মজুদ আছে। এপ্রিল-মে মাসের জন্য পূর্ণ মজুদ রয়েছে।

সর্বশেষ মজুদ (২৬ এপ্রিল): ডিজেল ১,৫৪,৮০৮ মে.টন, অকটেন ২৫,০৭৭ মে.টন, পেট্রোল ১৯,২০১ মে.টন।

পদক্ষেপ: রেশনিং পদ্ধতিতে তেল সরবরাহ, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, ভিজিলেন্স টিম ও ট্যাগ অফিসার নিয়োগ। ২১ এপ্রিল পর্যন্ত অবৈধভাবে মজুত ৫,৭৬,৯৯৩ লিটার তেল উদ্ধার।

বাস্তবতা vs সরকারের বক্তব্য:

সরকার পর্যাপ্ত মজুদের কথা বললেও মাঠ পর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। দীর্ঘ লাইন, অনিয়মিত সরবরাহ প্রমাণ করছে পদক্ষেপ সীমিত কার্যকর। গণমাধ্যমে নিউজের রিপোর্টে প্রশ্ন তোলা হয়েছে: “তেল থাকলেও কেন তা মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না?”

সমাধানের চেষ্টা
ভারত থেকে ডিজেল : মৈত্রী পাইপ লাইন দিয়ে এপ্রিলে ৪০ হাজার টন ডিজেল আসছে পার্বতীপুর ডিপোয়।

রাশিয়ার তেল : বাংলাদেশ রাশিয়া থেকে তেল কিনে ভারতে পরিশোধন করবে, কারণ দেশের একমাত্র রিফাইনারি রাশিয়ান ভারী ক্রুড পরিশোধনে সক্ষম নয়।
কৃচ্ছ্রসাধন: অফিস সময় কমানো, বাজার সময় সীমিত, আলোকসজ্জা বন্ধ।

প্রভাব :
পরিবহন : রাজশাহী-ঢাকা রুটে এসি বাসের ভাড়া ২০০ টাকা বেড়ে ১১০০ টাকা থেকে ১৩০০ টাকা হয়েছে।

যানজট: পাম্পের সামনে দীর্ঘ লাইনের কারণে তীব্র যানজট।

অর্থনীতি : শিল্প, কৃষি ও পরিবহনে তেলের অব্যাহত সরবরাহ অপরিহার্য, সংকট দীর্ঘ হলে সব খাতেই প্রভাব পড়বে।

বিশেষজ্ঞ মত : জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. বদরুল ইমাম বলছেন, উদ্যোগগুলো সঠিকভাবে নিলে সংকট কমবে, তবে একদিনে হবে না। ড. শামসুল আলম বলছেন, আতঙ্ক কমাতে সরবরাহ ও বিক্রির সীমা বাড়ানো জরুরি।

পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি বলছে, অকটেনের সমস্যা কেটে গেলেও ডিজেলের চাহিদা বেড়েছে। সরবরাহ কিছুটা বাড়লে লাইন থাকবে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বাস্তবের সঙ্গে সরকারের কথার মিল নেই,

বাংলাদেশে তেল সংকট: সর্বশেষ পরিস্থিতি

আপডেট সময় : ১২:০৮:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

ক্রাইম নিউজ প্রতিক্ষণ ডেস্ক:

বাংলাদেশে চলছে তেল নিয়ে তেলেসমতি। সরকার বলছে তেলের কোন সংকট নেই কিন্ত বাস্তবে দেখা গেছে উল্টো চিত্র । অনেক পেট্রোল পাম্প বন্ধ, যেটা খোলা সেখানেও ৩/৪ ঘণ্টা তেল দিয়ে শেষ হয়ে যাচ্ছে তেল। পাঠকদের জন্য বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হল।

রাজধানীসহ সারা দেশে তেলের জন্য পাম্পগুলোতে এখনও লম্বা লাইন। তবে আগের তুলনায় ভোগান্তি কিছুটা কমেছে। আগে সারাদিন দাঁড়িয়ে থাকতে হলেও এখন ২৫ মিনিট থেকে ১-৩ ঘণ্টায় তেল পাওয়া যাচ্ছে।

ঢাকার চিত্র : ট্রাস্ট, মেঘনা ও সুমাত্রা পাম্পে ১-২ ঘণ্টা লাগছে। নিকুঞ্জ মডেল সার্ভিসে ২৫-৩৫ মিনিট। গাবতলি এসপি ফুয়েলে ৫০-৬০ জনের লাইন, সময় লাগছে ১ ঘণ্টা।

জেলায় অবস্থা আরও খারাপ : অনেক পাম্পে ১৫ দিনে একবার তেল দেওয়া হচ্ছে। ৪০% পাম্প মাসে ১৫-২০ দিনে একবার তেল পাচ্ছে।

সংকটের মূল কারণ:
সরকার বলছে এটা ‘কৃত্রিম সংকট’। কিন্তু পাম্প মালিক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন মিশ্র কারণ:

আন্তর্জাতিক চাপ*: মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে অস্থিরতা। হরমুজ প্রণালি নিয়ে চাপও আছে।

চাহিদা বনাম বরাদ্দ : গত বছরের তুলনায় গাড়ি বেড়েছে, কিন্তু পাম্পগুলো গত বছরের হারে তেল পাচ্ছে। অনেক পাম্প মাসের শুরুতেই বরাদ্দ শেষ করে ফেলছে।

প্যানিক বাইং: ক্রেতারা প্রয়োজনের বেশি তেল কিনে মজুত করছেন। আগে ২০০ টাকার তেল কিনলেও এখন ১২০০-১৩০০ টাকার তেল কিনছে।

গ্যাসসংকট: গ্যাসের অভাবে দেশে উৎপাদিত পেট্রোল-অকটেনও কম পাওয়া যাচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভ্রাট: লোডশেডিংয়ের কারণে কারখানায় জেনারেটর চালাতে ডিজেলের চাহিদা বেড়েছে।

সরকার কী বলছে?

মজুদ সর্বোচ্চ : বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, দেশের ইতিহাসে এখন সবচেয়ে বেশি জ্বালানি মজুদ আছে। এপ্রিল-মে মাসের জন্য পূর্ণ মজুদ রয়েছে।

সর্বশেষ মজুদ (২৬ এপ্রিল): ডিজেল ১,৫৪,৮০৮ মে.টন, অকটেন ২৫,০৭৭ মে.টন, পেট্রোল ১৯,২০১ মে.টন।

পদক্ষেপ: রেশনিং পদ্ধতিতে তেল সরবরাহ, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, ভিজিলেন্স টিম ও ট্যাগ অফিসার নিয়োগ। ২১ এপ্রিল পর্যন্ত অবৈধভাবে মজুত ৫,৭৬,৯৯৩ লিটার তেল উদ্ধার।

বাস্তবতা vs সরকারের বক্তব্য:

সরকার পর্যাপ্ত মজুদের কথা বললেও মাঠ পর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। দীর্ঘ লাইন, অনিয়মিত সরবরাহ প্রমাণ করছে পদক্ষেপ সীমিত কার্যকর। গণমাধ্যমে নিউজের রিপোর্টে প্রশ্ন তোলা হয়েছে: “তেল থাকলেও কেন তা মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না?”

সমাধানের চেষ্টা
ভারত থেকে ডিজেল : মৈত্রী পাইপ লাইন দিয়ে এপ্রিলে ৪০ হাজার টন ডিজেল আসছে পার্বতীপুর ডিপোয়।

রাশিয়ার তেল : বাংলাদেশ রাশিয়া থেকে তেল কিনে ভারতে পরিশোধন করবে, কারণ দেশের একমাত্র রিফাইনারি রাশিয়ান ভারী ক্রুড পরিশোধনে সক্ষম নয়।
কৃচ্ছ্রসাধন: অফিস সময় কমানো, বাজার সময় সীমিত, আলোকসজ্জা বন্ধ।

প্রভাব :
পরিবহন : রাজশাহী-ঢাকা রুটে এসি বাসের ভাড়া ২০০ টাকা বেড়ে ১১০০ টাকা থেকে ১৩০০ টাকা হয়েছে।

যানজট: পাম্পের সামনে দীর্ঘ লাইনের কারণে তীব্র যানজট।

অর্থনীতি : শিল্প, কৃষি ও পরিবহনে তেলের অব্যাহত সরবরাহ অপরিহার্য, সংকট দীর্ঘ হলে সব খাতেই প্রভাব পড়বে।

বিশেষজ্ঞ মত : জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. বদরুল ইমাম বলছেন, উদ্যোগগুলো সঠিকভাবে নিলে সংকট কমবে, তবে একদিনে হবে না। ড. শামসুল আলম বলছেন, আতঙ্ক কমাতে সরবরাহ ও বিক্রির সীমা বাড়ানো জরুরি।

পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি বলছে, অকটেনের সমস্যা কেটে গেলেও ডিজেলের চাহিদা বেড়েছে। সরবরাহ কিছুটা বাড়লে লাইন থাকবে না।