ঢাকা ০৬:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের,

আরেকবার হামলা হলে ‘দীর্ঘস্থায়ী ও ভয়াবহ’ পালটা আঘাত হানবে ইরান।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৯:২৫:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬ ৬৩ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরান আবারও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সামরিক হামলা চালায়, তাহলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে তারা ‘দীর্ঘস্থায়ী এবং ভয়াবহ’ পালটা আঘাতের লক্ষ্যবস্তু করবে। একই সঙ্গে দেশটি স্পষ্টভাবে হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের অধিকার ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।

এই হুঁশিয়ারির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বহুজাতিক জোট গঠনের পরিকল্পনা, যার উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চালু করা, তা আরও জটিল পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই প্রণালি বিশ্ব তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখান দিয়েই বৈশ্বিক জ্বালানির একটি বড় অংশ পরিবাহিত হয়।

বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে এই জলপথ কার্যত অচল হয়ে আছে। টানা দুই মাস ধরে চলা এই অচলাবস্থায় বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক বাজারে। জ্বালানির দাম ইতোমধ্যেই উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে এবং এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মন্দার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

সংঘাত নিরসনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছিল, সেটিও বর্তমানে প্রায় স্থবির হয়ে গেছে। ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইরান এখনো হরমুজ প্রণালির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। দেশটির দাবি, মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে তাদের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ—বিশেষ করে তেল রপ্তানি চাপের মুখে পড়ায় এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে তারা।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে বলেন, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার অংশ হিসেবে প্রণালির নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা হয়েছে, যা তাদের মতে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় বৈধ।

তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, একটি সার্বভৌম দেশের উপকূলীয় জলপথকে অন্য রাষ্ট্র নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, আঞ্চলিক কিছু দেশও এই সংঘাতে পরোক্ষভাবে যুক্ত হয়েছে, যা ভবিষ্যতে তাদের জন্য রাজনৈতিক ও আইনি জবাবদিহির কারণ হতে পারে।

এদিকে পারস্য উপসাগরীয় কয়েকটি দেশও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগে নিজেদের নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের নাগরিকদের ইরান, ইরাক ও লেবানন ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে বলেছে এবং যারা ইতোমধ্যে সেখানে আছেন, তাদের দ্রুত দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের এক শীর্ষ উপদেষ্টা বলেন, ইরানের বর্তমান অবস্থানের কারণে আঞ্চলিক আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একতরফা কোনো পদক্ষেপকে বিশ্বাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে বাহরাইনের রাজাও ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে দেশটির অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নষ্ট করার অভিযোগ তুলেছেন এবং জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির বিষয়ে সতর্ক করেছেন।

সূত্র : তাসনিম নিউজ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের,

আরেকবার হামলা হলে ‘দীর্ঘস্থায়ী ও ভয়াবহ’ পালটা আঘাত হানবে ইরান।

আপডেট সময় : ০৯:২৫:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরান আবারও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সামরিক হামলা চালায়, তাহলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে তারা ‘দীর্ঘস্থায়ী এবং ভয়াবহ’ পালটা আঘাতের লক্ষ্যবস্তু করবে। একই সঙ্গে দেশটি স্পষ্টভাবে হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের অধিকার ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।

এই হুঁশিয়ারির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বহুজাতিক জোট গঠনের পরিকল্পনা, যার উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চালু করা, তা আরও জটিল পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই প্রণালি বিশ্ব তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখান দিয়েই বৈশ্বিক জ্বালানির একটি বড় অংশ পরিবাহিত হয়।

বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে এই জলপথ কার্যত অচল হয়ে আছে। টানা দুই মাস ধরে চলা এই অচলাবস্থায় বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক বাজারে। জ্বালানির দাম ইতোমধ্যেই উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে এবং এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মন্দার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

সংঘাত নিরসনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছিল, সেটিও বর্তমানে প্রায় স্থবির হয়ে গেছে। ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইরান এখনো হরমুজ প্রণালির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। দেশটির দাবি, মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে তাদের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ—বিশেষ করে তেল রপ্তানি চাপের মুখে পড়ায় এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে তারা।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে বলেন, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার অংশ হিসেবে প্রণালির নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা হয়েছে, যা তাদের মতে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় বৈধ।

তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, একটি সার্বভৌম দেশের উপকূলীয় জলপথকে অন্য রাষ্ট্র নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, আঞ্চলিক কিছু দেশও এই সংঘাতে পরোক্ষভাবে যুক্ত হয়েছে, যা ভবিষ্যতে তাদের জন্য রাজনৈতিক ও আইনি জবাবদিহির কারণ হতে পারে।

এদিকে পারস্য উপসাগরীয় কয়েকটি দেশও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগে নিজেদের নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের নাগরিকদের ইরান, ইরাক ও লেবানন ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে বলেছে এবং যারা ইতোমধ্যে সেখানে আছেন, তাদের দ্রুত দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের এক শীর্ষ উপদেষ্টা বলেন, ইরানের বর্তমান অবস্থানের কারণে আঞ্চলিক আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একতরফা কোনো পদক্ষেপকে বিশ্বাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে বাহরাইনের রাজাও ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে দেশটির অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নষ্ট করার অভিযোগ তুলেছেন এবং জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির বিষয়ে সতর্ক করেছেন।

সূত্র : তাসনিম নিউজ।